স্বার্থপর || লিডিয়া ডেভিস
স্বার্থপর হবার সবচেয়ে উপকারী দিকটা হচ্ছে যখন তোমার বাচ্চারা আঘাত পায়, কিন্তু তাতে তুমি বিশেষ চিন্তিত হও না, কারণ তুমি নিজে ঠিক আছ। তবে এটা কাজ করবে না যদি তুমি অল্প স্বার্থপর হও। অনেক বেশি স্বার্থপর হতে হবে তোমাকে। জিনিসটা এভাবেই কাজ করে। তুমি অল্প স্বার্থপর হলে তাদের নিয়ে সামান্য ঝামেলায় পড়তে পারো, কারণ তাদের দিকে তোমার মনোযোগ দিতে হয়। তাদের জামা-কাপড় বলতে গেলে সব সময় সাফসুতরোই থাকে, মাঝে-সাঝে নতুন এক হেয়ারকাট, যদিও স্কুলে যাবার রসদ শুধু এগুলোই না; আবার যখন তোমার তাদের প্রয়োজন হয়, তুমি তাদের সঙ্গ থেকে আনন্দ নাও, তাদের জোকসগুলোতে হেসে ওঠো। যদিও তোমার ধৈর্য কমে আসে যখন তারা দুষ্টুমি করা শুরু করে, কাজের সময় তোমাকে বিরক্ত করে, তুমি বুঝতে পারো তাদের আসলে কী দরকার; তুমি জানো নিজেদের বন্ধুদের সাথে তারা কী কী করছে, তুমি প্রশ্ন করো, তবে সেগুলোর সংখ্যাও বেশি হয় না, আর কোন নিশ্চিত অবস্থায় না পৌঁছে, যেহেতু হাতে সময় বড্ড কম, কোনো না কোনো ঝামেলা শুরু হয়ে যায়। তুমি এগুলো খেয়াল করতে পারো না, কারণ তুমি খুব ব্যস্ত। তারা চুরি করতে শুরু করে, আর তুমি ভাবতে থাকো বাসায় এগুলো কী এসেছে; তারা তোমাকে এনে দেখায় তারা কী চুরি করেছে, এবং যখন তুমি প্রশ্ন করো, তারা মিথ্যা বলা শুরু করে। তুমি তাদের বিশ্বাসও করো, প্রত্যেক বার, কারণ তাদের তখন এতটাই অকপট মনে হয় যে সত্যটা বের করে আনতে অনেক সময় চলে যায়। যদি তুমি স্বার্থপর হও, কখনো কখনো ঠিক এরকমই হবে। আর যদি তুমি যথেষ্ট পরিমাণ স্বার্থপর না হও, পরবর্তীতে যখন তারা কোন গুরুতর ঝামেলায় জড়িয়ে যায়, তুমি ভুগতে থাকো। ভুগতে থাকার মাঝেই, যেহেতু অভ্যাসবশত তুমি স্বার্থপর, বলে উঠবে, আমার প্রচণ্ড রাগ হচ্ছে, জীবনটা একদম বরবাদ হয়ে গেছে, আমি বাঁচব আর কী নিয়ে? যদি তুমি স্বার্থপর হতে যাও, তাহলে তোমাকে আরো স্বার্থপর হতে হবে, এতটাই স্বার্থপর যে তারা কোন ঝামেলায় পড়লে নিজের বন্ধু, পরিচিত মানুষজন, পরিবারের অন্য সদস্যদের সামনে দেখাবে তুমি দুঃখিত, মনের গভীর থেকে দুঃখ অনুভব করছো। যদিও ভেতর ভেতর তোমার স্বস্তি থাকে, এমনকি খানিকটা আনন্দিতও হও, যে তোমার সাথে এটা ঘটছে না।
ফেলোশিপ || লিডিয়া ডেভিস
এটা এমন নয় যে তুমি ফেলোশিপের যোগ্য নও, তোমার এপ্লিকেশনগুলো কোন বছরই খুব বেশি ভালো হয় নি। যখন তোমার এপ্লিকেশন একদম নিখুঁত হবে, তখন তুমি ফেলোশিপটা পাবে।
২.
এটা এমন নয় যে তুমি ফেলোশিপের যোগ্য নও, তবে প্রথমে তোমার ধৈর্যের পরীক্ষা করতে হবে। প্রতিবছরই তোমার ধৈর্যশীলতা দেখতে পাচ্ছি, এরপরও কিন্তু তোমার ধৈর্য যথেষ্ট নয়। যখন তুমি সত্যি বুঝতে পারবে ধৈর্যশীল হওয়া বলতে আসলে কী বোঝায়, যখন ফেলোশিপের ব্যাপারে সবকিছু ভুলে যাবে, ঠিক তখনই ফেলোশিপটা পাবে।
চুরি যাওয়া সালামির গল্প || লিডিয়া ডেভিস
ব্রুকলিনে আমার ছেলের ইতালীয় বাড়িওয়ালা একটা ছাউনির নিচে সালামি শুকাতে দিত আর পরে উনুনের শিকে সেগুলো গ্রিল করত।
এক রাতে ভাঙচুর আর ছোটখাটো চুরির স্রোতের মধ্যে কেউ ছাউনিটা ভেঙে সালামিগুলো নিয়ে যায়। পরের দিন আমার ছেলে বাড়িওয়ালাকে সেটার ব্যাপারে জানালো। উধাও হওয়া সসেজগুলোর বিষয়ে সে দুঃখ প্রকাশ করল। বাড়িওয়ালাকে স্থির আর নিরাশ দেখালেও সে সংশোধন করে দিলো : ‘সেগুলো সসেজ ছিল না, সালামি ছিল।’ এরপর চুরির বিষয়টা শহরের এক বিখ্যাত ম্যাগাজিনে চমকপ্রদ শহুরে একটা ঘটনা হিশেবে প্রকাশ পেয়ে যায়। প্রতিবেদনটিতে চুরি যাওয়া বস্তুকে রিপোর্টার ‘সসেজ’ বলে আখ্যায়িত করেছিল। আমার ছেলে বাড়িওয়ালাকে প্রতিবেদনটি দেখাল, যে ঘটনাটার ম্যাগাজিনে প্রকাশ হবার ব্যাপারে কিছুই জানত না। বাড়িওয়ালা খানিকটা তৃপ্ত আর আগ্রহী, কারণ ঘটনাটা একটা প্রতিবেদন হিসেবে ছাপা হয়েছে, কিন্তু কথার মাঝেই সে যোগ করল, ‘সেগুলো সসেজ ছিল না, সালামি ছিল।’
বন্ধুর মুখে শোনা এক গল্প || লিডিয়া ডেভিস
গল্পটা কোনো একদিন আমাকে বলেছিল আমার এক বন্ধু, যেটা ছিল তার প্রতিবেশীকে নিয়ে। এক অনলাইন ডেটিং সার্ভিসের মাধ্যমে কোনো এক অজানা লোকের সাথে তার পরিচয় হয়েছিল। তার বন্ধুটি থাকত শতশত মাইল দূরে, নর্থ ক্যারোলিনায়। ছেলে দুজন প্রথমে নিজেদের মধ্যে বার্তা পাঠিয়েছিল, আর তারপর ছবি। এরই মাঝে তাদের কথোপকথন দীর্ঘ হতে থাকে, প্রথমে লেখায়, আর তারপর ফোনে। নিজেদের আগ্রহে অনেক মিল খুঁজে পায় তারা, যেগুলো আবার তাদের আবেগ, অনুভূতি আর বুদ্ধিমত্তার দিক থেকেও সঙ্গতিপূর্ণ ছিল। একে অপরের সঙ্গ তাদের কাছে আনন্দদায়ক ছিল। এর সাথে তারা আবার শারীরিক আকর্ষণও অনুভব করা শুরু করল, ইন্টারনেটে কথা বলে নিজেরা এ বিষয়ে যতটুকু বুঝতে পারল আর কি। তাদের পেশাগত আগ্রহও প্রায় কাছাকাছি; আমার বন্ধুর প্রতিবেশী একজন অ্যাকাউনটেন্ট, আর তার নতুন বন্ধু দক্ষিণের এক ছোট্ট কলেজে অর্থনীতির অ্যাসিসটেন্ট প্রফেসর। কয়েক মাস পর তারা নিজেদের প্রেমের বিষয়টা সত্যি বুঝতে পারে, এবং আমার বন্ধুর প্রতিবেশী নিশ্চিত হয়, ‘এখন দেখা করতেই হবে,’ যেভাবে সে আমাকে বলেছিল। যখন কোনো এক ছুটির সাক্ষাৎ সামনে এসে পড়ল, তখনই সে দক্ষিণে গিয়ে নিজের ইন্টারনেট প্রেমিকের সাক্ষাৎ পাবার জন্য প্লেনের টিকেট কেটে আনল।
প্লেনে ভ্রমণের সময় নিজের বন্ধুকে দু-তিন বার কল করে সে কথা বলল। কিন্তু অপর পাশ থেকে আর কোনো সাড়া না পেয়ে খুব বিস্মিত হলো সে। এমনকি তার বন্ধু এয়ারপোর্টে তার সাথে দেখা করতেও আসলো না। অনেকক্ষণ সে সেখানে অপেক্ষা করল, তার বন্ধুকে কলও দিলো। কল রিসিভ করছে না দেখে এয়ারপোর্ট ছেড়ে সে-ঠিকানায় গেল যেটা তার বন্ধু তাকে দিয়েছিল। নক করার পরও কারো কোনো সাড়া পাওয়া যায় না। সব ধরনের সম্ভাবনা তখন তার মাথার ভেতরে ঘুরপাক খেতে থাকল।
এই জায়গায় গল্পটার কিছুটা অংশ উধাও। তবে সে-দিনের ব্যাপারে আমার বন্ধু বলল যে তার প্রতিবেশী জানতে পারে, যখন সে দক্ষিণের দিকে যাচ্ছিল, তার ইন্টারনেট বন্ধু নিজের ডাক্তারের সাথে কথা বলা অবস্থায় হার্ট অ্যাটাকে মারা যায়; আমার বন্ধুর প্রতিবেশী এটার ব্যাপারের জানতে পারে তার প্রতিবেশী অথবা পুলিশের কাছ থেকে। স্থানীয় মর্গে তালাশ করে সে; তাকে তার ইন্টারনেট বন্ধুর চেহারা দেখতে দেওয়া হয়; একজন মৃত লোকের সামনে দাঁড়িয়ে, তার দিকে নিজের দৃষ্টি নিবন্ধন করে নিশ্চিত হয়–লোকটা তার জীবনের সঙ্গী ছিল।
মা || লিডিয়া ডেভিস
মেয়েটা একটা গল্প লিখল। কিন্তু কত ভালো হতো তুমি যদি একটা উপন্যাস লিখতে, বলল তার মা। পুতুলের এক ঘর বানালো মেয়েটা। ‘কিন্তু কত ভালো হতো যদি এটা সত্যিকারের একটা বাসা হতো,’ বলল তার মা। মেয়েটা তার বাবার জন্য একটা বালিশ তৈরি করল,’ কিন্তু কাঁথা তৈরি করাটা কি বেশি বাস্তবসম্মত ছিল না,’ বলল তার মা। মেয়েটা বাগানে একটা বড় গর্ত করে তার মধ্যে শুয়ে পড়ল। ‘কিন্তু কত ভালো হতো যদি তুমি চিরতরে ঘুমিয়ে পড়তে,’ বলল তার মা।
খাঁচা || হাইনরিশ ব্যোল
কাঁটাতারের ঝোপটার পাশে বিষণ্ণ দৃষ্টিতে একজন তাকিয়ে ছিল। মানবিক কিছু একটা দেখার আশায় ছিল সে, কিন্তু এই জট, শৃঙ্খলিত কুৎসিত এই কাঁটাতারের জটগুলো বাদে আর কিছুই দেখতে পেল না। এর কিছুক্ষণ পর ল্যাট্রিনের পাশে কাকতাড়ুয়ার মতো কিছু একটাকে টলতে টলতে এগিয়ে যেতে দেখল। ল্যাট্রিনের ও পাশটায় খোলা মাঠ আর তাবু, কাঁটাতারের আরো জট, আরো কাকতাড়ুয়া-সদৃশ মানুষ। দেখলে মনে হয় এগুলোর বিস্তৃতি অনন্তে। আর মাঝে একটা জায়গায় কোনো কাঁটাতারের বেড়া দেখা যাচ্ছিল না, কিন্তু সে নিজেই যেন সেটা দেখে বিশ্বাস করতে পারছিল না। কুঁচকে ওঠা নীল আকাশের জ্বলন্ত কিন্তু নিখুঁত নিরাসক্ত চেহারাটা দেখতে নৃশংস, যার ঠিক মাঝখানটায় নির্দয় সূর্যটা ঝুলে ছিল। তীব্র দাবদাহে মধ্যাহ্নে নেতিয়ে পড়া কোনো জন্তুর মতো স্থবির হয়ে পড়েছিল সম্পূর্ণ পৃথিবী। সুউচ্চ, বিশাল কোন টাওয়ারে লাগা আগুনের মতো ভারী হয়ে উঠেছিল উত্তাপটা তার উপর।
মানবিক কিছুই খুঁজে পেল না তার চোখ। তার পেছনে–আরো স্পষ্ট করে বললে, না ঘুরেই টের পেল চরম বিভীষিকা। সেখানেই সবাই পড়ে ছিল। অনতিক্রম্য ফুটবল মাঠটার চারপাশে, পচে ওঠা মাছের মতো, পাশাপাশি গুচ্ছাকারে পড়ে ছিল বাকিরা। তাদের পাশে, আশ্চর্যজনকভাবে, পরিষ্কার ল্যাট্রিন, তারও অনেক পেছনে দেখা যায় স্বর্গ ছায়াময়, শূন্য তাঁবু, যেগুলোর প্রহরায় আছে ভরপেটের পুলিশেরা…
কী শান্ত জায়গাটা, কী উষ্ণ!
হঠাৎ নিজের মাথা নিচু করে ফেললো সে, যেন কোন হাতুড়ি-পেটার মাঝে তার গ্রীবা পড়ে গেছে, আর তখনই এমন কিছু দেখল যাতে সে উৎফুল্ল হলো : খোলা মাঠে কাঁটাতারের বেড়ার কৃশ ছায়া, দেখতে যেগুলো কোন নকশার প্যাঁচানো শাখার মতো, ক্ষিণ তবে সুন্দর। তার কাছে মনে হলো সেগুলো অনন্ত গুনে স্নিগ্ধ। সূক্ষ্ণ নকশাগুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত। হ্যাঁ, দেখে মনে হলো সেগুলো হাসছে, স্নিগ্ধভাবে আর নিঃশব্দে।
আনত হলো সে, এবং সতর্কতার সাথে কাঁটাতারের বেড়ার ভেতর একটা সুন্দর শাখা স্পর্শ করল। চেহারার কাছাকাছি সেটাকে নিয়ে এসে হাসল, যেন কোন পাখা তাকে বাতাস করেই যাচ্ছে। এরপর সে নিজের দুহাত দিয়ে মনোরম ছায়াগুলোকে ধরার চেষ্টা করল, কাঁটাতারের বেড়ার ডান আর বাম–দুপাশেই দেখল, আর তার চোখের স্থির শান্তি উবে গেল : এক আদিম আশার বিস্তরণ হলো তার মনে, কারণ তার চোখের সামনে তখন অসংখ্য নকশা, যেগুলোকে একত্র করার পর অপরূপ হয়ে ওঠে। তার চোখের মনিগুলো এতই বড় হয়ে ওঠে যেন সেগুলো নিজ অক্ষিগোলকের কারাগার ছেড়ে পালিয়ে যেতে চাইছিল : তীব্র কান্নায় কাঁটাতারের বেড়ার ওপর ঝাঁপ দিলো সে, আর নির্দয় কাঁটাতারে সে যত পেঁচিয়ে উঠছিল, তত তীব্রভাবে সেগুলোকে আঘাত করে যাচ্ছিল সে, মাকড়শার জালে আটকে পড়া কোনো মাছির মতো। তবে তখনো ছায়ার সূক্ষ্ণ শাখা-প্রশাখা ধরার প্রাণান্ত চেষ্টাটা ছিল তার। হাত দুটো তার নিশ্চল হয়ে এসেছিল যখন ভরপেটের পুলিশেরা সেখানটায় আসলো, কাঁটাতারের বেড়া কেটে তাকে মুক্ত করার জন্য।
পার্কের অনুবৃত্তি || হুলিও কোর্তাজার
কিছুদিন আগে সে উপন্যাসটি পড়া শুরু করেছিল। তবে ব্যবসা-সংক্রান্ত কোনো এক জরুরি সম্মেলনের জন্য তাকে বইটা রেখে দিতে হয়েছিল। ট্রেনে করে এস্টেটে ফেরার পথে বইটা খুলে সে আবার পড়া শুরু করল; ধীরে ধীরে তার আগ্রহ বাড়তে থাকল উপন্যাসের প্লট আর চরিত্রায়নে। সেদিন দুপুরে নিজের পাওয়ার অব অ্যাটোর্নির ব্যাপারে একটা চিঠি লিখে আর ম্যানেজারের সাথে নিজের এস্টেটের যুগ্ম মালিকানা নিয়ে আলোচনা করার পর, ওক গাছে পরিপূর্ণ পার্কের দিকমুখি নিজের স্টাডি-রুমে শান্তিতে সে বইটা নিয়ে বসল। দরজার সামনে নিজের প্রিয় আর্মচেয়ারে বসে–এমনকি অনাগত যে কারো আগমন তাকে তখন বিরক্ত করতে পারত, যদি সে এটার কথা ভাবত আর কি–আর্মচেয়ারের মখমলের আবরনে নিজের বাম হাতটা ঝুলিয়ে উপন্যাসটার চূড়ান্ত অধ্যায়গুলো পড়ে যাচ্ছিলো। অনায়াসে চরিত্রগুলোর নাম এবং নিজের মস্তিষ্কের ভেতর তাদের প্রতিবিম্বগুলো আঁকতে পারছিল সে; তবে তৎক্ষণাৎ তাকে ছেড়ে গেল উপন্যাসটার আকর্ষণ। সব জিনিস থেকে এক এক করে বিচ্ছিন্ন করার এক স্পৃহার স্বাদ পেল সে, এবং প্রায় একই সময়ে সবুজ মখমলের আর্মচেয়ারে মাথা রেখে খেয়াল করল সিগারেটের প্যাকেট তার হাতের নাগালে, যার পাশে আবার বড় জানালাটা, যেখান দিয়ে পার্কের ওক গাছের নিচে খেলা করা দুপুরের হাওয়া আসছে। প্রতিটা শব্দে নায়ক এবং নায়িকার ব্যাপারে ভাবতে গিয়ে সে এমন স্থূল ধাঁধায় মধ্যে গিয়ে পড়ল যেন নিজেকে কোনো একটা জায়গায় নিমগ্ন করলে মনের চিত্রগুলো আস্তে আস্তে থিতু হয়ে আসে, রঙ ধারণ করে, গতিশীল হয়। পাহাড়ি কেবিনে চূড়ান্ত সাক্ষাতের সাক্ষী থাকে সে। প্রথমে নারীটি আসলো। এরপর আসলো তার প্রেমিক, গাছের ডাল-পালায় যার মুখের বিভিন্ন অংশ কেটে গিয়েছিল। প্রশংসা করতে করতেই চুমু দিয়ে নিজের প্রেমিকের মুখের কাটা জায়গা থেকে বের হওয়া রক্ত মুছে দিলো সে, তবে তার প্রেমিক ধমক দিয়ে সে-আদর প্রত্যাখান করল। বনের মধ্যে শুকনো পাতা দিতে ঢেকে রাখা অলক্ষিত পথে কোন গোপন অনুভূতির বাহ্যিক লৌকিকতা প্রমাণ করতে সে সেখানে আসেনি। প্রেমিকের বুকের পাশে ছুরিটা উষ্ণ থাকে, আর তার নিচে টগবগ করে সাহস। সর্পিল জলপ্রপাতের মতো এক অভীক, হাঁপানো কথোপকথন পাতাগুলোয় জুড়ে বসল। একজন ভাবল এর সবকিছু অনন্ত থেকে আগত। প্রেমিদের শরীরে আছরে পড়া সব আদর যেন সে-জায়গাটাতেই তাদের আটকে রাখছিল। তাদের পরিকল্পনা মোতাবেক কাউকে ধ্বংস করা তাদের জন্য একদম ফরজ। হিশেব করে তারা দেখলো কোন কিছুই উপেক্ষা করা হয়নি : অজুহাত, অদেখা বিপদ, সম্ভাব্য সব ভুল, এখন থেকেই, তাদের তাদের প্রতিটা মুহূর্তের কাজ একদম মিনিট প্রতি বরাদ্দকৃত। ঠান্ডামাথায় খুঁটিনাটি বিষয়গুলো পুনরায় পরীক্ষা করায় কোনো ছেদ পড়ল না। সন্ধ্যা প্রায় হয়ে আসছিল তখন।
নিজেদের দিকে আর না তাকিয়ে, যে-কাজটা করার অপেক্ষায় ছিল তারা, সেটার ওপর দৃষ্টি দিলো। কেবিনের দরজার সামনে তারা আলাদা হয়ে গেল। যে-রাস্তাটা উত্তরের দিকে গিয়েছে সেটা অনুসরণ করতে হতো প্রেমিকাকে। উল্টো দিকের রাস্তায় যাবার সময় প্রেমিক দেখতে পেল প্রেমিকার খোলা চুল, উড়ন্ত অবস্থায়। ঘুরে সেও দৌড় দিলো, গাছ আর বেড়ার মাঝে দিয়ে, গোধূলির হলদেটে কুয়াশার ভেতর একটা গাছের সারি খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত সামনে এগোতে থাকল। একটা বাড়ির দিক নির্দেশ করল গাছের সারিটা। কুকুরগুলোর ঘেউ-ঘেউ করার কথা নয়, তারা ঘেউ-ঘেউ করলও না। এস্টেট ম্যানেজারের এই মুহূর্তে সেখানে থাকার কথা নয়, এবং সেখানে সে ছিলও না। বারান্দার তিনটা সিঁড়ি বেয়ে সে উপরে উঠে বাড়ির ভেতর প্রবেশ করল। নারীটির কণ্ঠস্বর রক্তের মিশ্রণ থেকে তার কানে চলে আসে। প্রথমে একটা নীল কামরা পড়ল, এরপর একটা হল-রুম, তারপর কার্পেট-বিছানো সিঁড়ি। সিঁড়ির ঠিক উপরে দুটো দরজা। প্রথম রুমটায় কেউ নেই, দ্বিতীয়টাতেও কেউ নেই। বৈঠকখানার দরজা পার হয় সে, আর তারপর, ছুরি হাতে নিয়ে এগিয়ে দেখতে পেল বড় জানালা থেকে আসা আলো, সবুজ মখমলে আবৃত আর্মচেয়ারের পেছনের পাশটা, যার সামনে বসে পড়তে থাকা লোকটার মাথা।
পেরিং ছুরি || মাইকেল ওপেনহাইমার
আমার ভালোবাসার নারী আর আমি যখন ঘর পরিষ্কার করছিলাম তখন ফ্রিজের নিচে একটা ছুরি খুঁজে পেলাম। সেটা ছিল একটা ছোট পেরিং ছুরি যা আবার অনেক বছর আগে আমরা হারিয়ে ফেলে ভুলেও গিয়েছিলাম। আমার ভালোবাসার নারীকে ছুরিটা দেখালাম আর সে বলল, ‘ওহ, তুমি এটা কোথায় খুঁজে পেলে?’ তাকে বলার পর ছুরিটা টেবিলের ওপর রেখে সে অন্য রুম সাফ করার জন্য চলে গেল। রান্নাঘরের মেঝে পরিষ্কার করার সময় চার বছর আগে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনার কথা আমার মনে আসল। খেয়াল আসল কীভাবে ছুরিটা ফ্রিজের তলায় চলে গিয়েছিল।
আমরা বড়সড় একটা ডিনার করার পর অনেক বেশি ওয়াইন খেয়ে ফেলেছিলাম। বাসার সব বাতি নিভিয়ে দিয়ে, জামা-কাপড় ছেড়ে আমরা বিছানায় গিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম ভালোবাসবো, কিন্তু কিছু একটা হয়ে গেল আর ভালোবাসার সময় দুজনের তর্ক বেঁধে গেল। এর আগে আমাদের মাঝে এমন কখনো হয়নি। আমাদের দুজনেরই প্রচণ্ড রাগ হলো। আমার ভালোবাসার নারীটাকে প্রচণ্ড অপমানজনক কিছু একটা বলে ফেললাম আমি। বিছানার মধ্যে থাকা অবস্থায়ই সে আমাকে একটা লাথি দিলো আর আমি রান্নাঘরে চলে আসলাম। একটু বিশ্রাম নেবার জন্য টেবিলের ওপর নিজের হাত রেখে তার ওপর নিজের মাথা রাখলাম, তবে টের পেলাম আমার মাথার পাশেই সব নোংরা প্লেটগুলো। টেবিলের ওপর যা ছিল সব ফেলে দিলাম। প্রচণ্ড আওয়াজ হলো। কিন্তু তারপরেই আবার রুমটা নিস্তব্ধ। হঠাৎ করেই আমার খারাপ লাগতে শুরু করে। মনে হলো সবকিছু ধ্বংস করে ফেলেছি; আমি কাঁদতে শুরু করলাম। আমার ভালোবাসার নারীটা রান্নাঘরে আসলো আর জিজ্ঞেস করল আমি ঠিক আছি কি না। আমি ‘হ্যাঁ’ বললাম। সে বাতি জ্বালালে রান্নাঘরের মেঝের অবস্থা দুজনেই দেখতে পেলাম আমরা। খুব বেশি কিছু ভাঙেনি। তবে মেঝেটা একদম নোংরা হয়ে গিয়েছে। দুজনেই হেসে উঠলাম আর বিছানায় ফেরত গিয়ে তাকে আদর করলাম। পরের দিন মেঝেটা পরিষ্কার করি ঠিকই, কিন্তু ছুরিটার কথা ভুলে যাই। যখন পাশের রুম পরিষ্কার করে আমার ভালোবাসার নারীটা ফেরত আসলো তখন তাকে আমি ঘটনাটার ব্যাপারে প্রায় জিজ্ঞেস করেই ফেলেছিলাম, কিন্তু কিছু না বলে পেরিং ছুরিটা সে টেবিল থেকে তুলে নিয়ে আবার ফ্রিজের নিচে ঠেলে দিলো।
বিধবা || জন আপডাইক
প্রশ্ন : জায়গাটা খুব সুন্দর করে সাজিয়ে রেখেছেন।
উত্তর : রাখার চেষ্টা করি আর কি। তবে এটা ধরে রাখা কঠিন, ভালোই কঠিন।
প্রশ্ন : কত বছর হলো তাহলে?
উত্তর : সাত। সেপ্টেম্বরে সাত হবে। এই চেয়ারটাতেই সেদিন সে বসে ছিল, ঠিক যেখানে তুমি বসে আছ, আর পরের মিনিটটাতেই সে নেই। একটা ছোট্ট দীর্ঘশ্বাস, আর সে চলে গেল।
প্রশ্ন : শুনে মনে হচ্ছে তার চলে যাবার পথটা বেশি কষ্টের ছিল না। কোনো না কোনো সময়ে আমাদের সবাইকেই তো যেতে হবে।
উত্তর : সবাই এটাই বলেছে। যাজক, গোরখোদক। আমারও কৃতজ্ঞ থাকা উচিত। তবে তার চলে যাওয়াটা একটু কম আকস্মিক হলে হয়তো ধাক্কাটা অত তীব্র হতো না। তখন এমন মনে হচ্ছিল যেন সে চলে যেতেই চাচ্ছে। যেভাবে চলে গেল সেটা দেখেই বলছি।
প্রশ্ন : আমার সন্দেহ আছে এটায়। তবে আমার আগ্রহ আপনাকে নিয়ে। এটা প্রায় কয়েক বছর ধরেই। আপনাকে কেন যেন আশ্চর্যজনভাবে সুস্থ দেখায়।
উত্তর : এটা পিল নেওয়া বন্ধ করার পর থেকেই আসলে। এখনকার ডাক্তাররা শুধু পিল নেবার পরামর্শ দেয়, অন্তত আমার যা মনে হয়, আমাদের মারার জন্যই তারা এটা করে। আগে আমার মাথা ঘুরত, এক পায়ের তুলনায় আরেকটা বড় দেখাত, হাতে কিছু একটা কাঁটা ফোটাচ্ছে এরকম মনে হতো… এখন সব থেমে গেছে, পিল নেওয়া বন্ধ করার পর থেকে।
প্রশ্ন : আর আপনার… মানসিক অবস্থা কেমন যাচ্ছে?
উত্তর : যদি তুমি মনে করো আমার সব বুদ্ধি হারিয়ে গেছে তাহলে সেটা তোমার বিচার। আমি ভুলে যাই, কিন্তু আমি তো আসলে সব সময় সে-রকমই ছিলাম। আমি জানি, যদি আমি রুমটার মাঝখানটায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি, তাহলে ওটা চলে আসবে। ঘুমিয়ে পড়ার মতো সেটা। গোঁড়ার দিকে আতঙ্ক হতো। তবে এখন যদি আমি ভোর তিনটায় জেগে যাই, আমি মেনে নেই আমার শরীর আমার কাছে কী চায়। নিজের দেহের ওপর বিশ্বাস রেখো।
প্রশ্ন : মানসিক অবস্থা বলতে আমি আসলে আরো দুঃখ, একাকিত্ব, আত্ম-পরিচয়ের ব্যাপার বুঝিয়েছিলাম। যেহেতু আপনি নিজের… স্বামী হারিয়েছেন।
উত্তর : আসলে প্রথমেই এই জায়গাটা। না, এই অপচ্ছায়াগুলো। তারপর এই জায়গা।
প্রশ্ন : ভূত?
উত্তর : হ্যাঁ, এখানেই, সব সময়। আমার সাথে কথা বলে, এক পায়ের ওপর আরেক পা রাখার আবদার করে, আবার আতঙ্কিত হতেও মানা করে। এরা দরজার ছিটকিনি ধরে কেন যেন ঝাঁকায় রাতের বেলা। ঠিক এখন যেখানে তুমি বসে আছ, ওই চেয়ারটাই দোলাতে দেখেছি আমি, অনেক বার।
প্রশ্ন : আমার মনে হয় অন্য কোনো চেয়ারে বসা উচিত।
উত্তর : আরে না, দরকার নেই। ওই চেয়ারেই বসে থাকো। সবাই এটাই করে।
প্রশ্ন : ভূত আর জায়গার পর কী আছে আপনার বলার?
উত্তর : চমৎকার কিছু জিনিস। বিচিত্র। এর আগে আমি কখনো আকাশ খেয়াল করে দেখিনি। এই পৃথিবীতে আমার বয়স সত্তর হলো, আর আমি আকাশের দিকে ভালো করে তাকাইনি। এই তো সেদিন কিছু মেঘমালাকে খেয়াল করে দেখলাম, নিচের দিকে তারা তাদের ডগা ধরে রেখেছে, ঠিক পাহাড়ের মতো উপর-নিচ করে রাখা, অথবা ভিজে ওঠা কোনো হাতের লেখার মতো। সেটা দেখতে এত অদ্ভুত ছিল, ঠিক তাদের নিজেদের মতো। তাদের সবকিছু বাতাসের থেকে ধার করা শব্দে এগুলো শুনতে দারুণ অদ্ভুত লাগে।
প্রশ্ন : তো আপনি বলতে চাচ্ছেন স্বামীর মৃত্যুর পর আপনার জীবন আধ্যাত্মিকতার দিকে গিয়েছে।
উত্তর : বাস্তবতার দিকে, আধ্যাত্মিকতার দিকে না। ইনকাম তাক্সের কথাটাই ধরো, ফেডারেল আর স্টেইট, দুটোর সবকিছুই আমি নিজে করি। আমি আসলে জানতামই না আমার ভেতর সংখ্যা নিয়ে কাজ করার কী আনন্দ লুকিয়ে ছিল। আর মানুষজনেরা। আমার বন্ধু-বান্ধব আছে, প্রায় সব বয়সের। অনেক সময় এমন করে রাখি যাতে আমার ফোনে কোনো কল না আসে। জায়গার ব্যাপারে আমি তোমাকে আসলে এটাই বলেছিলাম, এমন একটা জায়গা যেটা আমি নিজের জন্য তৈরি করে নিতে পারি, যেখানে কেউ তার নিজের জায়গা ঠেলে নিয়ে আসতে পারবে না, ভোর ৪টায় মটরগাছের আগাছা সাফ করলে আর গান গাইলে কেউ বলতে পারবে না তোমার মাথাখারাপ।
প্রশ্ন : আপনি কি প্রায়ই গান গান?
উত্তর : আমি নিশ্চিত না।
প্রশ্ন : সত্যি বলতে আমি আপনার কোনো বিষয়েই নাকগলাতে চাই না।
উত্তর : তাহলে নাকগলিও না।
প্রবীণ কারো ইন্টারভিউ নিতে গেলে মেজাজের এরকম পরিবর্তনে, কথোপকথনে প্রবেশে আকস্মিক সংবারের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। মনুষ্য উপাদানকে দীর্ঘায়ু সামান্য ঘষা দিলে সেটা দেখতে এমন এক বইয়ের মতো হয় যার পৃষ্ঠাগুলো তাদের শিল্পের সূক্ষ্ণতার জন্য পরবর্তী পৃষ্ঠার বাক্যগুলো আগেই প্রকাশ করে দেয়, অথবা তাদের সামনাসামনি রাখলে নিজেদের দীর্ঘ সান্নিধ্য একে অপরের কাছে কালিমাখা আয়না বলে মনে হয়। সামগ্রিক সত্ত্বাকে তুলে ধরার সবচেয়ে স্বাভাবিক মাধ্যম হচ্ছে প্যারানয়া। অস্থিরতা ফেরেশতা হবার পূর্বশর্ত। বিধবার চেহারাটা ইন্টারভিউ দেবার পর পাথরের মতো শক্ত আর সরু হয়ে উঠেছে, যেটা কিছুক্ষণ আগেও অস্বাভাবিকভাবে শান্ত ছিল। ক্ষতের সামনে সবাইকে আসতেই হয়।
প্রশ্ন : কিন্তু ম্যাডাম, আমি আসলে নাকগলানোর মতো কিছু বলতে চাইনি–আমি বলতে চেয়েছি আসলে আমরা যা করি, আপনার সাক্ষ্য এতটাই স্পষ্ট, এতটাই স্পষ্ট, এতটাই যে আমরা সবচেয়ে দুরের শ্রোতাদেরও কাছে নিয়ে আসতে চাই… উম, বিধবাদের যুগে এটার বিশাল গুরুত্ব তাদের জানাতে চাই যারা নিজেদের একা ভাবে।
উত্তর : তুমি একা নও। একা নও। না।Texas Attorney General Ken Paxton is suing the Biden administration over its move to end the Title 42 public health order, arguing the rule is holding back a “devastating flood of illegal immigration.”
The lawsuit, which is the latest legal challenge from Republican states against the administration’s move to end Title 42, alleges that the Biden administration failed to follow the Administrative Procedure Act’s notice-and-comment requirements and did not consider the consequences of ending the public health order.
REPUBLICAN STATES SUE TO STOP BIDEN ADMIN’S LIFTING OF TITLE 42 BORDER POLICY
“The defendants now seek to eliminate their Title 42 border-control measures, which are the only rules holding back a devastating flood of illegal immigration,” the complaint states. “But they failed to follow the Administrative Procedure Act (APA) in attempting this destructive rescission of Title 42.”
The Biden administration announced earlier this month it will lift the order in May. Title 42 has been in place since March 2020 due to the COVID-19 pandemic and allows for the rapid expulsion of migrants at the border.
Republicans and Democrats have expressed concerns, which have been acknowledged by the administration, that ending Title 42 will lead to a massive influx of migrants at the border that will outpace the already high numbers. The administration, however, has said it is a public health order, not a border policy, and that the Centers for Disease Control (CDC) can’t use it as for border-related reasons.
Ken Paxton, Texas attorney general, speaks during the Conservative Political Action Conference (CPAC) in Dallas, Texas, July 11, 2021.
In an interview with Fox News Digital, Paxton argued the move breached the “arbitrary and capricious” legal test because of the different approaches the Biden administration is taking toward the border given other aspects of its approach to COVID-19.
“We’re … arguing that the change is arbitrary and capricious in light of the fact that everything else they’re doing is designed to restrict Americans, whether it’s fighting to keep mask mandates on airplanes or pushing forward on their vaccine mandates,” Paxton said. “But, as it relates to the border, they have a completely different view of COVID as it relates to illegal immigrants. They seem not to be concerned at all.”
Texas and other border states are already facing massive border numbers, with more than 221,000 migrants encountered in March. That number is expected to rise in April.
“We already have a massive influx of illegals. This was the only thing left keeping it from being even worse,” Paxton said. “Anything we can do to slow the border crisis from expanding when the Biden administration clearly wants it to be expanded, we have to do.”
placeholder
It is the latest legal push on immigration and Title 42 by Paxton and other Republican states. Paxton has won a number of legal battles, including a halt to a planned deportation moratorium last year and efforts in the ongoing fight to force the administration to reinstate the Migrant Protection Protocols that will be argued before the Supreme Court next week.
Paxton said the border crisis has led to increasing crime and led to higher costs for Texans for law enforcement, health care and education.
Lawmakers back bipartisan border measure to extend Title 42Video
“We also have a massive increase in drug overdoses, not just in Texas but all over the country,” Paxton said. “Cartels are gaining greater power through the Biden administration’s partnership with them, and let’s just admit it, it’s a partnership.”
58-MEMBER BIPARTISAN HOUSE PROBLEM SOLVERS CAUCUS BACKS BILL TO EXTEND TITLE 42
Given that successful challenges to Biden’s immigration-related policies have also been based on the APA, Republicans are confident of their success in challenging the Title 42 rollback.
The Immigration Reform Law Institute (IRLI), the legal arm of the Federation for American Immigration Reform (FAIR), is representing Texas in the suit as outside counsel and said if the termination of Title 42 stands, “the already gigantic and unmanageable numbers of illegal border crossers will likely double, making the border crisis even more acute.”
“The legal grounds we demonstrate for enjoining this termination are sound, and we hope the court acts swiftly to protect the country from this latest extreme act of a lawless administration,” Dale Wilcox, executive director and general counsel of IRLI, said in a statement.
placeholder
A fourth migrant bus from Texas arrived in Washington, D.C., near the U.S. Capitol April 16, 2022.
The lawsuit is separate from a 21-state complaint filed initially by Arizona, Louisiana and Missouri earlier this month, which called lifting Title 42 a “self-inflicted calamity.”
“I think it’s a good idea for different states to file in different places, so we can keep pressure on the Biden administration when they’re acting illegally under federal law, when they’re basically spitting in the face of the American people as it relates to their role under the U.S. Constitution,” Paxton said.
অভিভাবকেরা || কেলি চেরি
আমরা আমাদের বাচ্চাদের নিয়ে আসি–নীল-চোখের বাচ্চারা, বাদামি-চোখের বাচ্চারা–আমরা আসি মার্চ করতে থাকা ব্যান্ড আর তাদের প্যারেড দেখতে। কমবয়সী নারীরা তাড়াতাড়ি হেঁটে যায়, শূন্যে ছড়ি ঘোরে, আকাশে বিজলির মতো সেটা চমকায়। আহ, বাচ্চাটাকে ছেড়ে দাও, শোভাযাত্রার মঞ্চ চলে এসেছে। দ্যাখো মিকি ডাক! দ্যাখো ডোনাল্ড মাউস! স্নো হোয়াইট নিজের কুমড়োর সাওয়ারিতে উঠে বসে, দ্রুত, আরো দ্রুত, রাজকুমারকে বিয়ে করার জন্য গতি আরো বাড়ায়, যে তাকে উপহার দেবে অনেকগুলো বাচ্চা–নীল-চোখের বাচ্চা, বাদামি-চোখের বাচ্চা, আমাদের বাচ্চাগুলোর মতোই, যারা―হারিয়ে গেছে! প্যারেডে এসে হারিয়ে গেছে! আমাদের বাচ্চারা কোথায়, কোথায় গেল বাচ্চারা? আমরা সব জায়গা তন্নতন্ন করে খুঁজি, প্রত্যেকের কাছে গিয়ে চেঁচাই : বাচ্চাদের খুঁজে বের করো, প্লিজ! হঠাৎ তখন তাদের দেখতে পাই। তাদের হয়তো কেউই খুঁজে পেত না। লম্বায় প্রায় তিন ফুট হয়ে গেছে তারা। কারো গোঁফ গজিয়েছে না হয় বাড় বেড়েছে স্তনের। নিজের সনি ওয়াকম্যান কারো মিছরির দলার সাথে বদল করে নিয়েছে তারা। আমরা তাদের চুমু খাই আর জড়িয়ে ধরি, কিন্তু তাদের শরীরের নতুন আকার দেখে গোপনে খানিকটা ভয়ও পাই। তারা আমাদের ভয় পেতে মানা করে। আমাদের দেখাশোনা করবে তারা। এবং নিশ্চিত হয়ে, তাদের গাড়িটা চালাতে দিয়ে বাসায় ফেরত আসি, কারণ তাদের চোখ আমাদেরটার তুলনায় অনেক বেশি তীক্ষ্ণ, তাদের শরীর আরো বেশি দৃঢ়, আমরা যে পথটা বারবার শুধু ভুলে যাই সেটা তারা খুব ভালো করে চেনে। তারা আমাদের মাথায় হাত বুলিয়ে দেয় আর শান্ত থাকতে বলে। শনিবারে বাচ্চারা আমাদের সব থেকে সেরা কফিনটা বাছাই করতে সাহায্য করে। তারা লজ্জা পায় যখন আমরা সেটাকে বাসায় নিয়ে ব্যবহার করার পরামর্শ দেই। কিন্তু তারা হাল ছেড়ে দেয়, কারণ তারা চায় না আমাদের মন খারাপ হোক। সিনেমা দেখার জন্য তারা বের হয়ে গেলে আমরা কফিনের ভেতর শুয়ে উপরের ঢাকনাটা লাগিয়ে দেই। সেলসম্যান বলেছিল কোনো কফিনের ভেতরেই বেশি জায়গা হবে না। তারা আরো বলেছিল স্বাস্থ্যকরও হবে না কোনটা। আমরা হেসেছিলাম, বয়স আমাদের খাটো করে দিয়েছে। এগুলোর ভেতর এঁটে যাবার জন্য আমরা যথেষ্ট ছোট। এগুলোর ভেতরটা ঠিক সিনেমা হলের মতো অন্ধকার, যেগুলোর পেছনের কোন সারিতে গিয়ে নিজেদের ঘাড় ঠ্যাকাই। এখন অবশ্য কিছু বাজছে না। ফিল্মটার ভেতর ফেরত যাবার আর কোনো উপায় নেই, আর যে শব্দটা শোনা যাচ্ছে সেটা সমাপ্তির, যা কাছে থেকেও আরো কাছে।