প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করে আবার রাজধানীতে ফিরতে শুরু করেছেন মানুষজন। কেউ পরিবার নিয়ে, আবার কেউ পরিবারকে রেখে ফিরছেন। পাশাপাশি ঈদের ছুটিতেও জরুরি পেশায় নিয়োজিত যেসব মানুষ ঢাকায় ছিলেন, তারা এখন প্রিয়জনের সঙ্গে সময় কাটাতে গ্রামে যাচ্ছেন। অবশ্য ঢাকামুখী যাত্রীদের চাপ ছিল কম। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় বৃহস্পতিবার (০৩ এপ্রিল) এ দৃশ্য দেখা যায়।
তবে যাত্রী কম থাকায় স্বস্তিতে ফিরছেন মানুষজন। অনেক প্রতিষ্ঠানে ছুটি শেষ হলেও যে পরিমাণ ভিড় বা গাড়ির চাপ থাকার কথা তেমনটি নেই। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের দৌলতদিয়া ঘাট এলাকায় যানবাহনের চাপ দেখা যায়নি। তবে ফেরির চেয়ে লঞ্চে যাত্রী বেশি পারাপার হচ্ছেন। পাশাপাশি অনেকে ঢাকায় ঈদ পালন শেষে এখন যাচ্ছেন গ্রামের বাড়িতে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহাসড়কের কোথাও তেমন কোনও গাড়ির চাপ নেই। যানজট ও ভোগান্তি না থাকায় স্বস্তিতে ফিরছেন ঢাকামুখী যাত্রীরা। তবে লঞ্চ ঘাটে যাত্রীর চাপ কিছুটা বেশি দেখা গেছে।
৭ নম্বর ঘাটে মেহেরপুর থেকে আসা জে আর পরিবহনের চালক মো. হামিদুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পদ্মা সেতু চালুর আগে নদী পাড়ি দিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হতো। ভেবেছিলাম ঈদের ছুটির শেষে অন্তত আজকের দিন যানজট হতে পারে। কিন্তু ঘাটে এসে দেখি কোনও যানজট নেই।’
যশোর থেকে আসা গাজীপুরগামী যাত্রী মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। শনিবার থেকে অফিস, তাই যানজট এড়াতে আগেই চলে যাচ্ছি। পথে কোনও ভোগান্তি হয়নি। স্ত্রী-সন্তান গ্রামের বাড়িতে রেখে চলে যাচ্ছি। পরের সপ্তাহে এসে তাদের গাজীপুরে গিয়ে নিয়ে যাবো।’
এদিকে বৃহস্পতিবার সকালে ফেরি ঘাটের পরিবর্তে লঞ্চ ঘাটে যাত্রীর চাপ তুলনামূলক বেশি ছিল। সকাল থেকে কর্মজীবী মানুষ কর্মস্থলের দিকে ছুটতে শুরু করেছেন। তবে বিকাল থেকে কোনও চাপ ছিল না।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় ১৭টি ফেরি ও ২০টি লঞ্চ চলছে। দৌলতদিয়ায় সাতটির মধ্যে ৩, ৪ ও ৭ নম্বর ফেরিঘাট এবং একটি লঞ্চ ঘাট সচল আছে। বুধবার সকাল ৬টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দৌলতদিয়া দিয়ে ৩০২টি বাস, ১৭২টি ট্রাক, ২৬৭টি ছোট গাড়ি ও ৬১৪টি মোটরসাইকেল পার হয়েছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ট্রাফিক বিভাগের ঘাট তত্ত্বাবধায়ক মো. শিমুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই নৌপথে ২০টি লঞ্চ চলছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কর্মস্থলে যাচ্ছেন মানুষজন। পদ্মা সেতু চালুর আগে যে চাপ থাকতো তা এখন নেই। ফলে স্বস্তিতেই যাচ্ছেন সবাই।’
বিআইডব্লিউটিএর দৌলতদিয়া ঘাট কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মো. সালাহ উদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বর্তমানে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ছোট-বড় ১৭টি ফেরি চলাচল করছে। সকালে একযোগে কিছু যানবাহন আসায় ঘাটে সাময়কি বাসের সিরিয়াল ছিল। তবে বিকাল থেকে কোনও সিরিয়াল নেই। মনে হচ্ছে শুক্রবার সকাল থেকে যাত্রীর সঙ্গে গাড়ির চাপ বাড়তে পারে। আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে।’
গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদুর রহমান বলেন, ‘ঘাটের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ঈদের আগে সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করেছি আমরা। চুরি, ছিনতাই, দালাল ও যানজট কমাতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে ঘাটে। স্বস্তির ঈদযাত্রা উপহার দিতে পেরে আমরা আনন্দিত। এ ছাড়া ঘাটে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, বিআইডব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ সমন্বয় করে কাজ করেছে। আশা করছি, ঈদের আনন্দ উদযাপন শেষে ভালোভাবে কর্মস্থলে ফিরতে পারবেন মানুষজন।’