আগামী নভেম্বর-ডিসেম্বরে কাতারে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপ ফুটবল। এরই মধ্যে সেটির রেশ শুরু হয়ে গেছে। এখনো তিনটি দল জায়গা নিশ্চিত করতে পারেনি। সম্ভাব্য সেই দলগুলোকে নিয়ে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত সূচিও প্রকাশ করেছে ফিফা।
আগামী ২১ নভেম্বর শুরু হয়ে ১৮ ডিসেম্বর শেষ হবে বিশ্বকাপ ফুটবল। আগের আসরগুলোর মতো এবারও মোট ৩২টি দল অংশ নেবে। এরই মধ্যে ২৯টি দেশ তাদের জায়গা নিশ্চিত করেছে। বাকি রয়েছে আরও ৩টি জায়গা। সেগুলোর জন্য আগামী জুনে আটটি দেশ লড়াই করবে।
এবার বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলারের শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে সবার আগে নাম চলে আসে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসির। একজনের বয়স ৩৭ ও আরেকজনের ৩৫। পরবর্তী বিশ্বকাপ আসতে আসতে তাদের বয়স হবে ৪১ ও ৩৯! ওই বয়সে কেউ পেশাদার ফুটবল খেলে যাবে তা আশা করাটাও বোকামি। এছাড়া উরুগুয়ের লুইস সুয়ারেজ, এডিনসন কাভানি, স্পেনের জেরার্ড পিকে, ব্রাজিলের থিয়াগো সিলভা, পোল্যান্ডের রবার্ট লভানডফস্কি ও ক্রেয়েশিয়ার লুকা মদরিচ অন্যতম।
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো: সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার তিনি। ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলে ইতিহাসের সর্বাধিক গোলদাতা। দেশের হয়ে জিতেছেন ইউরো চ্যাম্পিয়ন। এছাড়া দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পাঁচ বার ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জিতেছেন পর্তুগিজ সুপারস্টার। খেলেছেন স্পোর্টিং লিসবন, ম্যানচেষ্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাসের মতো সেরা ক্লাবে। এই মুহূর্তে তার বয়স ৩৭! দলের জয়েও নিয়মিত অবদান রেখে যাচ্ছেন। পরবর্তী বিশ্বকাপ আসতে আসতে তার বয়স হবে ৪১।
ওই বয়সে তিনি পেশাদার ফুটবল খেলা চালিয়ে যাবেন কি না, সেটা সময়ই বলে দেবে। তবে ধরেই নেওয়া যায় যে, এটাই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে। যদিও তিনি কিছুদিন আগে বলেছেন, যতদিন শরীর সায় দেয়, খেলা চালিয়ে যাবেন। অবসরও নেবেন নিজের ইচ্ছায়, অন্য কারো সমালোচনা বা কথায় নয়।
লিওনেল মেসি: তিনিও সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার। দেশের হয়ে জয় করেছেন কোপা আমেরিকার শিরোপা। ২০১৪ সালের বিশ্বকাপে রানার্সআপ হয়েছেন। সর্বোচ্চ সাত বার ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জিতেছেন। বার্সেলোনার হয়ে জয় করেছেন অসংখ্য শিরোপা। তার বয়স এখন প্রায় ৩৫। পরবর্তী বিশ্বকাপ আসতে আসতে তার বয়স হবে ৩৯!
কিছুদিন আগে বলেছেন, বিশ্বকাপের পর অনেককিছুই পরিবর্তন হতে পারে। সেটা যে অবসরের কথাই বললেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। যদি দেশকে বিশ্বকাপ শিরোপা না জেতাতে পারেন তাহলে সেটাই সত্যি হতে পারে। ইঙ্গিত দিয়েছেন, আর্জেন্টিনার মাটিতে এরই মধ্যে নিজের শেষ ম্যাচ খেলে ফেলেছেন।
রবার্ট লভানডফস্কি: বায়ার্ন মিউনিখের এই পোলিশ ফরোয়ার্ডের বয়স এখন ৩৩। পরবর্তী বিশ্বকাপ আসতে আসতে তার বয়স হবে ৩৭! তখন হয়তো পেশাদার ফুটবল খেলা চালিয়ে যাবেন। কিন্তু বিশ্বকাপে নাও দেখা যেতে পারে। এখন পর্যন্ত ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জেতা হয়নি তার। তবে চলতি মৌসুমে সম্ভাবনার দৌঁড়ে অনেকটাই এগিয়ে আছেন। ফিফার বর্ষসেরা দুইবার জিতেছেন।
লুইস সুয়ারেজ: তাকে আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরা বলা হয়। উরুগুয়ের এই ফরোয়ার্ডের বয়স এখন ৩৫ চলে। পরবর্তী বিশ্বকাপ আসতে আসতে তার বয়স হবে ৩৯! তার জাতীয় দলের সতীর্থ এডিনসন কাভানিরও বয়স একই। তবে তিনি সুয়ারেজের মতো অত বিখ্যাত হতে না পারলেও সেরাদের একজন।
জেরার্ড পিকে: স্পেনের হয়ে ইউরো-বিশ্বকাপ-ইউরো জিতেছেন। বার্সেলোনার হয়ে জয় করেছেন অসংখ্য শিরোপা। এই ডিফেন্ডারের বয়সটা এখন ৩৫ চলে। স্পেন জাতীয় দলেও খুব একটা নিয়মিত নন। তবে অভিজ্ঞতা বিবেচনায় হয়তো শেষ পর্যন্ত স্কোয়াডে থাকতে পারেন তিনি। তাই এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে।
থিয়াগো সিলভা: ব্রাজিলের হয়ে কোপা আমেরিকা জয় করেছেন। বয়সটা ৩৭ হলেও এখনো তিনিই পাঁচ বারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের সেরা ডিফেন্ডার। তাকে নিয়েই দলের পরিকল্পনা সাজান কোচ তিতে। পরবর্তী বিশ্বকাপ আসতে আসতে তার বয়স হবে ৪১! তাই এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে।
লুকা মদরিচ: ক্রেয়েশিয়ার সোনালী প্রজন্মের সেরা ফুটবলার তিনি। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে দলকে নিয়ে যান ফাইনালে। অল্পের জন্য শিরোপা জিততে পারেননি। ওই বছর ব্যালন ডি’অরও জিতেছেন। বয়সটা এখন ৩৬ চলে। এখনো রিয়াল মাদ্রিদ ও ক্রেয়েশিয়ার মধ্যমাঠের রাজা তিনি। পরবর্তী বিশ্বকাপ আসতে আসতে তার বয়স হবে ৪২!
নেইমার: ব্রাজিলের ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা তিনি। আর কয়েকটি গোল হলে কিংবদন্তী পেলেকেও ছাড়িয়ে যাবেন। আধুনিক ফুটবলের অন্যতম সেরাও তিনি। বয়স মাত্র ৩০! খেলতে পারবেন আরও অন্তত ৭-৮ বছর। কিন্তু কয়েক মাস আগে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, কাতার বিশ্বকাপই হয়তো তার শেষ হতে যাচ্ছে। ব্রাজিলের জার্সি গায়ে এখন আর আগের মতো এনজয় করেন না। তাই তাকে নিয়েও সংশয় রয়েছে।